৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১০ই মুহাররম, ১৪৪০ হিজরী | শুক্রবার | রাত ২:২১ | শরৎকাল
সর্বশেষ সংবাদ
Bangla Font Problem?

মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে পারিবারিক বন্ধন ও শাসন আরও দৃঢ় করতে হবে, বললেন জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হাসান

রবিবার :: ১৫.০৪.২০১৮

শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং মাদক বিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকালে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ও পৌর এলাকার হরিপুর ১নং উচ্চ বিদ্যালয়ের সহযোগিতায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠিত সমাবেশে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. গোলাম রাব্বানী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইকবাল হোসেন, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ, ক্রীড়া কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান রুমি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আলমগীর হোসনসহ অন্যান্যরা। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম, নবাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসিনুর রহমান, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আব্দুল আওয়াল, ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর খাইরুল ইসলামসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আলমগীর হোসন অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, মাদক থেকে বিরত থাকলে আজকের শিক্ষার্থীদের ভবিষৎ অনেক উজ্জল। তাই তাদেরকে চরিত্রবান ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। আর এতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে অভিভাবকদেরকে। অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “মাদকদ্রব্যে আসক্ত হওয়ার কিছু লক্ষণ রয়েছে। তা হল- তাদের চোখ লালচে হয়ে থাকবে, অল্পতেই রেগে যাবে, সবসময় মেজাজ খিটখিটে থাকবে, পড়ার সময় দরজা বন্ধ রাখবে ইত্যাদি। মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত যেকোন তথ্য থাকলে আমাদেরকে জানান।” জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হাসান অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনাদের সবচাইতে প্রিয় জিনিস হচ্ছে আপনাদের সন্তানরা। পরিবার যদি প্রত্যেকটা সন্তানকে আগলে রাখে তাহলে মাদকাসক্ত বা বিপথে যাওয়ার সুযোগ থাকে না। একটি পরিবারের বন্ধন যদি ভাল হয়, পরিবেশ সুন্দর হয়, সন্তানের প্রতি সঠিকভাবে যতœ নেয়, সবধরনের বিষয়ে যদি দায়িত্বশীলতার সাথে খেয়াল রাখে, তাহলে সেই সন্তানের মাদকাসক্ত হওয়ার সুযোগ থাকে না। উঠতি বয়সের ছেলেদের সন্ধ্যার পর বাড়ির বাইরে থাকবে না, এইটুকু পারিবারিক শাসন ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে। কারন একটি ছেলে যখন মাদকাসক্ত হয়, তাতে রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্থ হয়, সমাজ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। কিন্তু সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় পরিবার। এর প্রথম ভুক্তভোগী হন তার বাবা-মা। এত সেই বাব-মা’র জীবন ধব্বংশ হয়ে যায়। তাই সন্তানকে বাঁচাতে বড় দায়িত্ব সেই পরিবারের। তাই মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে পারিবারিক বন্ধন ও শাসন আরও দৃঢ় করতে হবে। দেশে ৫ কোটি ছেলেমেয়ে কিশোর-তরুণ রয়েছে। তাদেরকে যদি দক্ষ ও শিক্ষিত মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি তাহলে আগামী দিনে আমরা উন্নত জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করব। মাদক ব্যবসায়ীরা আমাদের সমাজেরই অংশ। তাই মাদক ব্যবসায়ীদেরকে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।” সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, “আজকের যারা শিক্ষার্থী আগামী দিনে তারাই দেশের কর্ণধার। তাই অভিভাবকদের উচিত তাদের পাঠ্যবই ছাড়াও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহনের সুযোগ দিতে হবে। বিভিন্ন খেলাধূলা, ঐতিহ্য-সংস্কৃতি সর্ম্পকে জানাতে হবে। কারন শিক্ষার্থীরা মাদকাসক্ত বা বিপথে গেলে সবচাইতে ক্ষতিগ্রস্থ হন আপনারাই। আপনাদের সমস্ত স্বপ্ন পূরণে বাধা হয়ে দাড়ায় মাদকদ্রব্য। তাই সকলকে এ ব্যাপারে আরও বেশি সচেতন হতে হবে।” আলোচনা সমাবেশ শেষে হরিপুর ১নং উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় বাল্যবিয়ে ও মাদকবিরোধী দুটি নাটিকা অনুষ্ঠিত হয়।

মন্তব্য দেয়া বন্ধ রয়েছে।

একদম উপরে যান