২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১০ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩রা রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী | সোমবার | সকাল ৯:০১ | হেমন্তকাল
সর্বশেষ সংবাদ
Bangla Font Problem?

ঝিলিম ইউনিয়নে রোফিক সোনামণি পাঠশালায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে

শনিবার :: ১৭.০২.২০১৮
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নে রফিক সোনামণি পাঠাশালায় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকালে ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান-১ রাসেদুল হকের সভাপতিত্বে ও পদ্মা রোটারি কমিউনিটি কোর অব পদ্মার সভাপতি রাসেল রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব আবু হায়াত রহমতুল্লাহ, বিশেষ অতিথি ছিলেন, পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম বিপিএম এর প্রতিনিধি এডিশনাল এসপি মাহাবুবুল আলম পিপিএম, নবাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসিনুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৬৬ জন শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিগণ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বিশ্বরোড মোড়ের চায়ের দোকানদার ও স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রফিকুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, ঠাকুর পালশায় কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিলনা। আমি শিক্ষিত হতে পারিনি। কিন্তু আমি চাই যেন এলাকার ছেলেমেয়ারা শিক্ষিত হতে পারে স্কুলে যেতে পারে। তাই আমি নিজ ইচ্ছায় ২০১২ সালে কয়েকজন ছাত্রছাত্রী নিয়ে স্কুল শুরু করি। এখন এই স্কুলের মোট ১২০ জন ছেলেমেয়ে পড়াশোনা করছে। এই স্কুল প্রতিষ্ঠার পর প্রাক্তন জেলা প্রশাসক সরদার সরাফত আলী দেখে ৪০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছিলেন। সে টাকায় ছোটছোট দুটি চাটাইয়ের ঘর ও কিছু বেঞ্চ কেনা হয়েছে। কিছুদিন আগে এমপি আব্দুল ওদুদ বিশ্বাসের পক্ষ থেকে ২ টিয়ার বরাদ্দ পেয়েছি। সবচাইতে বড় দাতা হিসেবে অনুদান পেয়েছি আরসিসি পদ্মার কাছে। আরসিসি পদ্মার সভাপতি রাসেল রহমানের চেষ্টায় ঐ সংস্থার পক্ষ থেকে ২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা পেয়েছি। সেই টাকায় পাকা মেঝের দুটি টিনের ঘর, পাকা পায়খানা, চেয়ার টেবিল ও অন্যান্য জিনিসপত্র কিনতে পেরেছি। সে জমিতে স্কুল্ চলছে সেটি ১০ বছরের জন্য লিজ নেয়া হয়েছিল। লিজের মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে। আর স্কুলে যারা শিক্ষক হিসেবে পড়ায় তাদেরকে প্রতিমাসে কিছু খরচের টাকা আমার নিজ উপার্জন থেকে দিতে হয়। এ পরিস্থিতিতে স্কুল চালানো আমার জন্য খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে। আমি সবাইকে অনুরোধ করছি এলাকার ছেলেমেয়েদের দিকে দেখে স্কুলটি যেন টিকে থাকে সে জন্য সহযোগিতা করবেন। স্কুলের অন্যতম দাতা প্রতিষ্ঠান রোটারি ইন্টারন্যাশনাল ৩২৮১ বাংলাদেশের অধীনস্থ গুলশান রোটারি ক্লাবের অভিভাবকত্বে জেলার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রোটারি কমিউনিটি কোর অব পদ্মার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও অনুষ্ঠানের সঞ্চালক রাসেল রহমান বলেন, ২০১৩ সালে আমাদের নজরে আসে। একজন চায়ের দোকানদারের এমন মহৎ উদ্যোগ পরিদর্শনের জন্য গুলশান রোটারি ক্লাবের প্রকল্প চেয়ারম্যান ঢাকার বাসিন্দা ড. মাকসুদুর রহমান ও আমেরিকান রোটারিয়ান ড্যালিয়েল নর্টন কে আমন্ত্রণ জানাই। তারা কাটমন্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর রুবা রহমান সহ এসে এই কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এলাকার কোমলমতি বাচ্ছাদের দেখে মুগ্ধ হয়ে রফিকুল ইসলামে চাহিদা জানতে চাই এবং চাহিদামত প্রায় ৩ লাখ টাকা অনুদান দেন। এছাড়াও স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য দেয়াল ঘড়ি, ফ্যান, বই সহ বিভিন্ন ধরণের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উপকরণ দেয়া হয়েছে। স্কুলের নিজস্ব জনির ব্যবস্থা হলে একটি ভবন নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছিলেন তারা। বর্তমানে রোটারিয়ান ড. মাকসুদুর রহমান (৮৪) বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তাঁর সুস্থতা কামনা করে সবার দোয়ার কামনা করি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, চায়ের দোকানদার মোঃ রফিকুল ইসলামের চায়ের দোকানটি যেন আরো উন্নত ও স্থায়ী হয়ে থাকে বিশ্বরোড মোড়ে সেইজন্য ব্যবস্থা করা হবে। রফিকের দোকান চললে স্কুল চলবে। আমাদের দেশে অনেক ধনবান ব্যক্তি আছেন যারা সহযোগিতা করলে এমন একটি স্কুল পরিচালনা করা সহজ হবে। প্রধান অতিথি বলেন, রফিকের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। আমি ব্যক্তিগত ভাবে ও দাপ্তরিক ভাবে স্কুলের জমির জন্য সহযোগিতা করবো। আশেপাশে যদি কোন খাস জমি থাকে তাহলে সেটা বন্দবস্ত দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। রফিকের মত আমিও চাই যেন স্কুল টি চিরদিন টিকে থাকে। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা স্কুল স্থাপনের জন্য পার্শ্ববর্তী তিনটি জমি পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে গম্ভীরা পরিবেশিত হয়। গম্ভীরা পরিবেশন করেন চাঁপাই গম্ভীরা দলের নানা মাহাবুবুল আলম ও নাতী মানি রহমান। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের রোটারি কমিউনিটি কোর অব পদ্মার সৌজন্যে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এসময় স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য দেয়া বন্ধ রয়েছে।

একদম উপরে যান